# Tags

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে জিপিএ-৫ পেলো আছিয়া আক্তার

আব্দুর রউফ ভুঁইয়া :কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি-অতি দরিদ্র এতিম ছাত্রীর ঈর্ষণীয় সাফল্য -আলো ছড়াচ্ছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কুর্শা গ্রামের ইবনে তাইমিয়া আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসা।

পিতৃহীন দারিদ্র্যপীড়িত অথচ অদম্য মেধাসম্পন্ন ছাত্রী আছিয়া আক্তার। এবারের ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ধারীশ্বর গ্রামের ছাত্রী মোছাঃ আছিয়া আক্তার, পিতা- মৃত আক্কাস আলী। ২০১৩ সনে শিশু বয়সে মেয়েটি তার বাবাকে হারায় । দরিদ্র বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েটিকে পড়াশুনা করাবেন । মৃত স্বামীর স্বপ্ন পূরণের লক্ষে মেয়েটির মা গ্রামে শিশু সন্তানদেরকে রেখে ঢাকা শহরে দিনমজুরি করে অতি কষ্টে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে পড়াশুনা করিয়ে যাচ্ছেন।দশ বছর বয়সে তার মামা এরশাদ আলীর মাধ্যমে ভর্তি হয় নিকলী উপজেলার কুর্শা গ্রামের ইবনে তাইমিয়া আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসায়
অতি দারিদ্রতার সত্ত্বেও পড়াশুনার পাশাপাশি মায়ের অনুপস্থিতিতে সংসারের সকল দায়িত্ব আছিয়াকে ই পালন করতে হয়েছে। তার এই সাফল্যর পেছনে যেমন ছিল নিজের অধ্যবসায় ও মেধা, তেমনি ছিল ইবনে তাইমিয়া আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসার প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষকদের নিবেদিত সেবা। সাথে ছিল সুদীর্গ সময় ধরে “হাসেনে ইন্টারন্যাশনাল“ ও আলতাব নিসা ফাউন্ডেশন-এর নীরব, ধারাবাহিক, মানবিক ও আর্থিক সহায়তা-যা তাকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। তার এই অভাবনীয় রেজাল্টে খুশি হয়ে মেয়েটির ভবিষ্যত উচ্চ শিক্ষা, তার ছোট বোন ও ছোট ভাইয়ের শিক্ষা আর সন্তানদের পাশে থাকার জন্য মাকে মাসিক ভাতার ব্যবস্হা করে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আলতাব নিসা ফাউন্ডেশন-এর কর্তৃপক্ষ ।

ছাত্রী আছিয়া আক্তার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,
“আমি কখনো ভাবিনি এত কষ্টের মাঝেও জিপিএ-৫ পাবো। আমার মাদ্রাসা, শিক্ষক, মামা এবং যারা আমাকে সাহস দিয়েছেন- সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি বড় হয়ে মানুষের উপকারে আসতে চাই।

মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মোহাম্মদ দেওয়ান আলী এ বিষয়ে বলেন।
ইবনে তাইমিয়া আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসা শুরু থেকেই একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে- শুধু ফলাফল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও বাস্তব জীবনদর্শন গঠনে অবদান রাখা। আমরা মনে করি, একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে কেবল পরীক্ষায় ভালো করানোই যথেষ্ট নয়; বরং তার মনুষ্যত্ব, আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই প্রকৃত শিক্ষা।
আছিয়ার সাফল্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার শক্তির প্রতিফলন। একজন এতিম, দরিদ্র ছাত্রী যখন প্রতিকূলতা জয় করে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে, তখন বুঝতে পারি-আমরা সঠিক পথে আছি। এমন শিক্ষার্থীর পাশে থাকা শুধু দায়িত্ব নয়, এটা আমাদের মিশন। এই সাফল্য শুধু একজন ছাত্রীর নয়-এটি একটি মাদ্রাসা সুনামের প্রতিচ্ছবি ও ব্যবস্থাপনার ফসল একটি সমাজ সচেতন শিক্ষার ফলাফল। এই সাফল্যই বলে দেয়-ইবনে তাইমিয়া আইডিয়াল দাখিল মাদরাসা শুধু শিক্ষা নয়, গড়ে তোলে চরিত্র, বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ।

আছিয়া আক্তার আরো বলেন, এই সাফল্য আমার একার না যদি প্রতিষ্ঠান ও স্যারেরা আমাকে সঠিক গাইডলাইন না দিতেন তাহলে আমি এই পর্যায়ে আসতে পারতাম না। আমি আমার প্রতিষ্ঠান ও স্যারদেরও কৃতিত্ব দিবো এই ফলাফলের জন্য।